মহান মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিময় -৭১.–মাহবুবুল আলম নিরব

DipKantha
DipKantha
প্রকাশিত: ৩:০৭ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১, ২০২১

মহান মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিময় -৭১।পর্ব-৮
————————-
অতিরিক্ত যে দুটা পোষাকছিল তা কেম্পে রেখে আসতে হয়েছে কারন এগুলি নীতেগেলে আর কেম্পথেকে বেরনোযেতনা।আর জুতাতো বর্ডার পাড়ি দেওয়ার সময়ই ফেলেআসতে হয়েছে।
অতএব তিনি শাহাজাদ কাকাকে (বরশতউল্যা চৌধুরী ওনাকে আমরা কাকা ডাকতাম ছোট বেলা থেকেই)বল্লেন আমাদের আগামীকাল পোষাক ও জুতা কিনে দেওয়ার জন্য।
পরদিন কাকা আমাদের নীয়ে ক্যালকাটা নিউমার্কেট গেলেন , জুতা জামা ও পেন্ট কেনাহলো।বরশতউল্যা চৌধুরী মুক্তিযাদ্ধ শুরুর সাথে সাথেই ভারতে চলে আসেন।
উনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন বড় মাপের
ঠিকাদার ছিলেন, সাতক্ষিরায় তার বড় কোন কাজ চলছিল, সেই কাজের বিলপেয়ে উনি ওনার উইলী জীপনীয়ে ড্রাইভার মোনায়েম সহ বর্ডারপার হয়ে চলেআসেন শুনেছিযে উনি ওনার আনা সেইটাকা দেশের স্বাধীনতা আর মুক্তিরজন্য উৎসর্গ করেন। তার গাড়ীটিও মুজিব বাহিনীর কাজেই ব্যবহার হতো। ওনাদের দেশর বাড়ী ভোলার মনপুরায় দ্বীপ। বরিশাল শহরে ওনার পরিবারনীয়ে বসবাস করলেও উনি প্রায়শই ভোলায় আসতেন, ভোলায় ওনার বাসাটা আমাদের বাড়ীর সামনেই যে বাসায় সত্তুরের ভয়াবহ জলোশ্যাসেরপর বঙ্গবন্ধু এসে কয়েকদিন ছিলেন এবং তোফায়েলভাই সত্তুরের নির্বচন কালিন সময়ে ঐ বাসায় থেকেই নির্বচন করেছিলেন।আমরা ফিরেএলাম বাসায়।একদিনপর আমাদের বড় ভাই ওবায়দুল হক বাবুল মোল্লাহ দেশে ডুকবার আগে একবার আমাদের দেখতে আসেন একদিনেরজন্য । সে এক আবেগঘন দৃশ্য বাবুল ভাই ভোলা মুজিব বাহিনীর কমান্ডার নিযুক্ত হয়েছেন তারসাথে ভোলার আরও লোক আছে, তাদেরনীয়ে তিনি এখানথেকে দেরাদুন গীয়েই ভোলার উদ্দষ্যে রওয়ানা হবেন। আসার পথে ওনারা ছিলেন বাঙ্গালী পাবলিক এখন যোদ্ধা হাতিয়ারসহ ।শত্রুর চোখ ফাকিদিয়ে কি করে ভোলায় যাবেন কেজানে ? আল্লাহ ওনাদের সকলের সহায় হোন।বাবুলভাই সকালে চলেগেল এলো ব্রাম্মনবাড়ীয়ার রবিউল আলম চৌধুরী ছাত্রলীগ নেতা আহতহয়ে এলেন চিকিৎসারজন্য, তিনি পাকিস্তানী আর্মিদের এম্বুসে মারাত্বক আহত ছিলেন( এখন এম পি)। তার একটা পা গুলিতে ঝাজরা হয়ে গিয়েছিল। আমরা দুইভাই তাকে এবং পরে আরও কজন আহত নেত্রীবৃন্দের সেবা করতে থাকি।এরইমধ্যে খুলনা মুজিব বাহিনীর কমান্ডার কামরুজ্জামান টুকু ভাই তার সঙ্গী আহত সামছুল আলম হীরা ভাইকে নীয়ে উপস্থিত হন। হীরাভাই সুস্থহলে ওনাদের বলি আমরা আপনাদের সাথে দেশের ভেতরে যেতে চাই, তিনি টুকুভাইকে বলেন আমাদের কথা কিন্তু টুকুভাই রাজিনন।তিনি বলেন তোমরা ছোট এখানেই কাজকর, তোফায়েল ভাই শুনলে আমাদের রাগ করবে, ওনারা জানতেন তোফায়েল ভাইয়ের ছোটভাই আমরা সেজন্য সকলেই আমাদের স্নেহ করতেন সহানুভূতির চোখে দেখতেন। আমরা টুকুভাইদের লক্ষ্য রাখছিলাম, পরদিন সকালে ওনারা যশোরের খালিদ হাসান
টিটুভাইরা সহ বাংলাদেশর পথে বাসাথেকে বেরহন ।আমরা তাদের অনুসরনকরে যে রেলে ওনার উঠেন আমরাও অন্য বগীতেগীয়ে উঠি। ট্রেন কিছুদুর চলেএলে আমরা ওনাদের খুঁজেনেই, ওনি রাগহন তারপর আমাদের সিরিয়াসনেস দেখে বলেন ঠিকআছে আল্লাহ ভরষা চল।আবারও পলায়ন এবং অবশেষে দেশের মাটিতে ফেরা,নভেম্বর মাসের শেষপ্রায়।যশোর একদিন কাটিয়ে চারদিকের খোঁজখবর নীয়ে খুলনার পথে, ইতিমধ্যে শীরোমনির ভয়াবহ টেঙ্কযুদ্ধে মুক্তিযাদ্ধারা বিজয় লাভকরে ।পর্যুদস্ত পাকিস্তানীরা তখন খুলনায় জড়োহয়।টুকুভাইর নেত্রীত্বে আমরাও ধিরেধিরে খুলনার উপকন্ঠে হাজীর ঐদিকে মেজর জলিলের নেত্রীত্বে মুক্তিবাহিনীও জড়োহয়। অন্যদিকে ভারতের ইন্দিরা সরকারের কুটনৈতিক তৎপরতায় আন্তর্জাতিকভাবে পাকিস্তানের সরকার দিশেহারা, সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর সহজোগিতায় মুক্তিবাহিনী ও মুজিব বাহিনীর সাঁড়াশি আক্রমনে পাকিস্তানি ও স্থানীয় রাজাকার আলবদরাও দলেদলে জান বাঁচাতে পালাতে ব্যস্ত। কেমনজানি অজানা এক আনন্দে আমাদের সাহসের সীমা দুর্বারগতী লাভ করছে,মনেহচ্ছে বিজয় সমাগত।