॥ শিক্ষাবিদ ও লেখক এবনে গোলাম সামাদের ইন্তিকাল

DipKantha
DipKantha
প্রকাশিত: ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টর//

দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও লেখক প্রফেসর ড. এবনে গোলাম সামাদ ইন্তিকাল করেছেন। আজ ১৫ আগস্ট ২০২১ রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর ফায়ার ব্রিগেড মোড়ের নিজ বাসভবন নছিরন ভিলায় তিনি মারা যান। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
তিনি বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। সম্প্রতি তিনি করোনাক্রান্ত হন। পরে করোনা নিগেটিভও হয়। তাঁকে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেলে এবং পরে নগরীর জমজম হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার তিনি নিজ গৃহে ফিরে আসেন।
এবনে গোলাম সামাদ ২৯ ডিসেম্বর ১৯২৯ সালে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মো. ইয়াসিন আলী ছিলেন রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার। তাঁর মাতার নাম নছিরন নেসা। খ্যাতিমান লেখিকা দৌলতুননেসা বেগম ড. সামাদের বোন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ৪ ছেলে এবং ২ মেয়ের জনক। তিনি ১৯৪৮-এ শিক্ষা সংঘ বিষ্ণুপুর থেকে বি. কোর্স পাশ করেন যা তখনকার মাধ্যমিক সমমান পাশ ছিল। এরপর তিনি রাজশাহী কলেজ থেকে ১৯৪৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। তেজগাঁও কৃষি ইনিস্টিটিউট থেকে কৃষিবিদ্যায় স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি বিলেতে পাড়ি জমান উদ্ভিদ রোগতত্ত্বের ওপরে গবেষণা করতে। ফ্রান্সে ৪ বছর গবেষণা করেন প্ল্যান্ট ভাইরাসের ওপরে। ১৯৬৩ সালে দেশে ফিরে ১৯৬৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন এবং কোলকাতার জয়বাংলা পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হন।
রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞানের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. সামাদ ছিলেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট পণ্ডিত, চিন্তাবিদ, বহুমাত্রিক লেখক এবং কলামিস্ট। উদ্ভিদ বিজ্ঞানী হলেও ইতিহাস ও শিল্পকলায় তিনি বিশেষ আগ্রহী ছিলেন। এ সব বিষয়ে তাঁর লেখালিখি রয়েছে- যা মননশীল বক্তব্যে ঋদ্ধ। পরিণত বয়সে কলম ধরে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে ইতিহাসের অমূল্য উপাদান সংরক্ষণ করেন। তিনি কলাম লেখক হিসেবে বাংলাদেশে সমাধিক পরিচিত। তিনি মূলত রাজনীতি-সমাজনীতি নিয়েই বেশি লিখতেন। তাঁর লেখায় মুক্তচিন্তার ছাপ লক্ষ করা যায়। তাঁর লেখায় গভীর ইতিহাসচেতনারও ছাপ রয়েছে। দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশেষ রাজনৈতিক আনুগত্যের অভাব তাঁর রচনাগুলোর বিশেষ আকর্ষণ। আছে এক ধরনের নৈর্ব্যক্তিকতা- যা সচরাচর দেখা যায় না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আত্মজৈবনিক রচনা সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য প্রণিধানযোগ্য: শেখ মুজিবের অসমাপ্ত আত্মজীবনী মনে হয়েছে একটি বহুগুণে গুরুত্বপূর্ণ রচনা। এতে ধরা পড়েছে শেখ মুজিবের রাজনৈতিক দর্শন। এখন আওয়ামী লীগের মধ্যে অনুপ্রবিষ্ট হয়ে থাকা বাম-বুদ্ধিজীবীরা প্রমাণ করতে চাচ্ছেন যে, পাকিস্তান আন্দোলনটা ছিল একটি সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত। কিন্তু শেখ মুজিব তার জীবনীতে বলেছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা।’
কলাম লেখা ছাড়াও স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস ভিত্তিকপাঠ্য তালিকা এবং পাঠ্য তালিকার বাইরে তাঁর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বই রয়েছে। তাঁর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
১. বাংলাদেশের আদিবাসী এবং জাতি ও উপজাতি,
২. আত্মপক্ষ,
৩. আত্মপরিচয়ের সন্ধানে,
৪. বাংলাদেশ: সমাজ সংস্কৃতি রাজনীতি প্রতিক্রিয়া,
৫. বায়ান্ন থেকে একাত্তর,
৬. আমাদের রাজনৈতিক চিন্তা চেতনা এবং আরাকান সংকট,
৭. মানুষ ও তার শিল্পকলা,
৮. ইসলামী শিল্পকলা,
৯. শিল্পকলার ইতিকথা,
১০. বাংলাদেশে ইসলাম ও ঐতিহ্য,
১১. বর্তমান বিশ্ব ও মার্কসবাদ,
১২. বাংলাদেশের মানুষ ও ঐতিহ্য,
১৩. উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব,
১৪. জীবাণুতত্ত্ব,
১৫. উদ্ভিদ সমীক্ষা,
১৬. প্রাথমিক জীবাণুতত্ত্ব,
১৭. নৃ-তত্ত্বের প্রথমপাঠ,
১৮. নৃ-তত্ত্ব,
১৯. আমার স্বদেশ ভাবনা,
২০. রাজশাহীর ইতিবৃত্ত,
২১. বাংলাদেশ: মানুষ ও ঐতিহ্য প্রভৃতি।