ভোলায় মুসলিম নববধুকে জোড়পূর্বক তুলে নিল হিন্দু অবিভাবক, প্রতিবাদের ঝড়।

DipKantha
DipKantha
প্রকাশিত: ৩:৪৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৭, ২০২১

এম মিরাজ হোসাইন //

ভোলার দৌলতখানের কামরুল ইসলামে নামে যুবকের সদ্য মুসলিম হওয়া স্ত্রী ( হিন্দু থাকাকালীন নাম শ্রাবন্তী ) জান্নাতুল ফেরদাউসকে হিন্দু বাবা-মায়ের হাতে তুলে দিল স্থানীয় কালাম তুফানি গ্যাংরা । গত বৃহস্পতিবার উপজেলার চরখলিফা ইউনিয়নের দিদার উল্যাহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

কামরুল ইসলাম ঐ গ্রামের দিনমুজুর আলী হোসেনের ছেলে। কামরুল জানায় ,২ বছর আগে ঢাকার গাজিপুর জেলার জয়দেবপুর থানার নীলের পাড়ায় একটি ফ্যাক্টরিতে কাজ করতে গিয়ে সংকর চন্দ্র মন্ডলের মেয়ে শ্রাবন্ত্রী মন্ডলের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়।

পরে তাদের দু’জনের সম্মতিতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে শ্রাবন্ত্রী মন্ডলের নতুন নাম রাখা হয় জান্নাতুল ফেরদাউস। পরে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দৌলতখানে ফিরে আসে।

গত শুক্রবার স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নেতা কালাম তুফানিসহ আরও কিছু সহযোগী মিলে জোরপূর্বক নববধূকে হিন্দু বাবার হাতে তুলে দেয়। কালাম তুফানি গ্যাংরা সদ্য মুসলীম হওয়া জান্নাতুল ফেরদাউসের শ্বশুর বাড়ির লোকজন কে নানা হুমকি দিয়ে মেয়েটা কে জোরপূর্বক নিয়ে যায়। এ সময় ঐ নববধূর আত্নচিৎকারে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠে। পর ঐ দিন রাতের দিকে নববধূর কান্নার আহাজারির একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে যায়। ভিডিও টি মুহূর্তের মধ্যেই ফেইজবুকে ভাইরাল হয় । এ নিয়ে অনেকের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বর্তমানে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দৌলতখানে সর্বত্র নানা আমজনতা ফেসে উঠেছে । চলছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়।

অন্যদিকে শ্রাবন্ত্রী মন্ডল তার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা শংকর চন্দ্র মন্ডল বাদি হয়ে গত ১২/০৪/২০২১ ইং তারিখে গাজীপুর মহানগর নীলেরপাড়া থানায় একটি অপহরণের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১৮-০৪-২০২১ জিএমপি, সদর থানায় মামলা নং-১৬, ধারা- ২০০০ সনের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০ মামলাটি রুজু করা হয়। তার প্রেক্ষিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: লুৎফর রহমান গত ২৩/০৪/২০২১ ইং তারিখে ভিকটিম শ্রাবন্তী রানী মন্ডলকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।

এঘটনায় শ্রাবন্ত্রী মন্ডলের কান্নার আহাজারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই ভিডিওটি ফেইজবুকে ভাইরাল হয়ে যায়

ভিডিও তে দেখা যায়, শ্রাবন্ত্রী মন্ডল ওরফে জান্নাতুল ফেরদাউস কান্না জড়িত কন্ঠে উপস্থিত সবাইকে বলছিল, সে তার বাবা মায়ের কাছে যাবেনা। সে মুসলীম হয়েছে কামরুল তার স্বামী তার কাছেই থাকবে। এসময় তাকে গিয়াসউদ্দিন নামে এক মেম্বারের পা-ধরে কান্না করতে দেখা যায় । তার কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠলেও মন গলেনি স্বার্থান্বেষী কুচক্রি মহলের। কালাম তুফানি সহ স্থানীয় একটি মহল জোর জবরদস্তি ও টানা হেচড়া করে ঐ মেয়েকে গাড়িতে তুলে দেয়। মেয়েটা কান্না জড়িত কন্ঠে তার বাবার বাড়িতে যাবেনা বলে এবং স্বামী কামরুল ইসলামের বাড়িতে থাকবে বললেও তার এ কথায় কারো মন গলেনি। এমনকি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় মেয়েটিকে গাড়িতে জোরপূর্বক তুলে স্পর্শকাতর অবস্থায় জোরাজুরি করে টেনে হিচঁরে গাড়িতে তুলে দেয়। মেয়েটি সর্বশেষ নিরুপায় হয়ে একটা কথাই বলেছিল, পৃথিবীতে আল্লাহ ছাড়া আমার কেউ নাই।

এঘটনায় দৌলতখানের নও-মুসলিম মেয়েকে তার স্বামী বাড়ির থেকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার প্রতিবাদে নিন্দা জানিয়ে সোস্যাল মিডিয়াতে ব্যাপকহারে প্রতিবাদের জড় উঠেছে।

অন্যদিকে নও-মুসিলিম মেয়েকে তার স্বামী বাড়ির থেকে হিন্দু বাবা মায়ের কাছে তুলে দিলে সোমবার ৫টার দিকে উপজেলার মিয়ারহাটের সর্বস্থরের জনগনের নামে একটি ব্যানারে জোরপূর্বক কালাম তুপানি ও তার সহযোগীরা টাকার বিনিময়ে হিন্দু পরিবারের কাছে তুলে দেয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণ অবস্থান করেন। এতে ঐ এলাকার ৫০০/৬০০জন লোক অংশগ্রহণ করেন।

অন্যদিকে কামরুল ইসলাম জানান, ‘আমি যদি অপহরণ করে থাকতাম আমার স্ত্রীকে নিয়ে আমি লুকিয়ে থাকতাম। তাকে নিয়ে স্থানীয় সালিশে যেতাম না। আমার স্ত্রী সবার সামনে চিৎকার করে বলছে সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছে। তারপর ও কেউ তাদেরকে সাহায্য করতে আসেনি। কামরুল ইসলাম দাবি করেন তার স্ত্রীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে। তা
ভোলা নোটারী পাবলিকে রয়েছে।

এ বিষয় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও দৌলতখান থানা পুলিশ জানান, দৌলতখান চরখলিফা ইউনিয়নের দিদারউল্লাহ গ্রামের মো: আলী হোসেনর ছেলে কামরুল সাথে সনাতন ধর্মাম্বলীর মেয়ে শ্রাবন্তী রানী মন্ডল এর প্রেমের সম্পর্ক হয় এবং এই কারনে তাকে কামরুল ইসলাম নিয়ে আসে। পরবর্তীতে মো: কামরুল ইসলাম শ্রাবন্তী রানী মন্ডলের বয়স সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য দিয়ে মোকাম ভোলা নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে। কিন্তু ভিকটিমের জন্ম ও পিএসসির সনদ অনুযায়ী জন্ম তারিখ ০৫/০২/২০০৬খ্রি:। সেই হিসাবে তার বর্তমান বয়স ১৫ বছর ০২ মাস।

এইরুপ অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে হিন্দু ধর্ম হতে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরীত করা এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে বয়স বেশি দেখিয়ে মোকাম ভোলা নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে বিবাহ করা আইন সিদ্ধ নয়। এই বিষয়ে সকলকে সচেতন হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশ।

দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলার রহমান জানান, ‘ ভিকটিমের জন্ম ও পিএসসির সনদ অনুযায়ী জন্ম তারিখ ০৫/০২/২০০৬খ্রি:। সেই হিসাবে তার বর্তমান বয়স ১৫ বছর ০২ মাস। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়। তবে কেউ যদি এ ঘটনায় বাণিজ্য করে থাকে অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।