ডায়রিয়ায় কাপছে ভোলা। করোনা-ডায়রিয়া হ-য-ব-র-ল

DipKantha
DipKantha
প্রকাশিত: ৪:৫৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০২১

এম লোকমান হোসাইন/ এম মিরাজ হোসাইন//

ভোলায় হঠাৎ করে বেড়েছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ডায়রিয়ার আক্রান্ত রোগীর মধ্যে আট মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সের শিশুর সংখ্যা বেশি । চিকিৎসকরা বলছেন আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণেই এ অবস্থা হতে দেখা গেছে।

প্রতিদিন দৌলতখান হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৪০-৫০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। হাসপাতালে জায়গার অভাবে মেঝে এবং বারান্দায় রেখে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারি থেকে হঠাৎ করে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়া শুরু হলেও মার্চ এপ্রিল মাসে এই রোগের তীব্রতা বেড়ে যায়। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে স্থান সংকুলান না হওয়ায় রোগীদের ঠাঁই হয়েছে হাসপাতাল করিডোরের মেঝেতে। এ অবস্থায় চিকিৎসা দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন নার্স, চিকিৎসক এবং কর্মচারীরা।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের নার্সদের কাছ থেকে জানতে চাইলে তারা জানান, গত বছরের মার্চ থেকে করোনা ভাইরাসের আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার সাথে বাংলাদেশের প্রতিটি হাসপাতালে করোনা রোগীর জন্য আলাদা ইউনিট রাখা হয়েছে। হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এজন্য কিছুটা বেড সংকট রয়েছে। তারপরও আলাদা দুটি কক্ষে ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসা চলছে। কিন্তু চাপ বেশি থাকায় হাসপাতালের করিডোরের মেঝেতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টায় ৫০-৬০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। চিকিৎসা নিয়ে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।

গত শনিবার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত লামিয়া আক্তার নামের ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে নিয়ে আসেন তার স্বজনেরা। বেড না থাকায় মেঝেতে চিকিৎসা চলছে ঐ শিক্ষার্থীর। ডায়রিয়ার পাশাপাশি তার আরো কিছু সমস্যা রয়েছে। বুধবার পর্যন্ত সুস্থ না হওয়ায় চিকিৎসক আরও দুই দিন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য সহকারী জনাব মোহাম্মদ গজনবী জানান, অসচেতনতার কারনে অধিকাংশ লোকের ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাবে বিশেষ করে শিশুরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। ডায়রিয়া রোগ প্রতিরোধ করতে হলে অবশ্যই সচেতনতার পাশাপাশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।

ডায়রিয়া ওয়ার্ডে কর্তব্যরত নার্সেরা জানান, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ডায়রিয়া রোগী বেড়েছে। এ সময়ে শিশুদের প্রতি যত্নশীল থাকতে হবে। পাতলা পায়না ও বমি শুরু হলে শিশুকে মুখে খাবার স্যালাইন বার বার খাওয়ানো ও মায়ের বুকের দুধও খাওয়াতে হবে। তিনি প্রয়োজনে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে সকলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।
এছাড়া খোলা ও বাসি খাবার পরিহারের পাশাপাশি সব সময় হাত পরিষ্কার রাখারও পরামর্শ দেন এই নার্স।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, নির্ধারিত শয্যার চেয়ে অতিরিক্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে যার কারনে বেডের সংকুলান হচ্ছে না। তবে সকল রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে জানান । আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে ডায়রিয়া বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি আরো জানান,ডায়রিয়া থেকে রক্ষা পেতে হলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।

এদিকে চরফ্যাশন উপজেলায় ডায়রিয়া ও করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা খুব দ্রুতই বেড়ে যাচ্ছে বলে হাসপাতাল ঘুরে জানা গেছে। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ি, গত ১সপ্তাহে শতাধিক রোগী করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসলে নমুনা পরিক্ষায় ২৫ জনের রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে। এছাড়াও ডায়রিয়াসহ করোনার লক্ষন নিয়ে ৩০জন রোগী ভর্তি হয় এ হাসপাতালে। হাসপাতালের তথ্যে ২৫ জন করোনায় আক্রান্ত হলেও বেশিরভাগ রোগী রয়েছে হোম আইসোলেশনে। এছাড়াও সরকারি হাসপাতালের এক চিকিৎসক আক্রান্ত হয়ে চরফ্যাশন হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও আরও দুইজন করোনা আক্রান্ত রোগীকে ভোলা ও বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা আইসোলেশনে রয়েছেন বলেও সূত্রে জানা গেছে। তবে করোনা ও ডায়রিয়ায় যবুথবু পরিস্থিতিতে রবিবার (১৮এপ্রিল) ৭০জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হলেও ১১ এপ্রিল থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত ৭দিনে ২২৯ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয় এ হাসপাতালে। ডায়রিয়া আক্রান্ত বেশিরভাগ রোগীই হচ্ছে নারী পাশাপাশি আবাল বৃদ্ধ ও শিশুও রয়েছে এ তালিকায়।
রবিবার সকালে ১৫০জন রোগী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে জানান আবাসীক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মাহাবুব কবির। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে এটি মৌসুমি অথবা ভাইরাল ডায়রিয়া হবে। ডায়রিয়ার রোগীদের চিকিৎসা দিতে চিকিৎসক ও সেবিকারা হিমশিম খাচ্ছে। এ চিকিৎসক আরও জানান, ডায়রিয়া রোগীর প্রচুর পরিমানে চাপ থাকায় ১মাসের স্যালাইনসহ ডায়রিয়ার অন্যান্য ওষুধ গত ৩দিনেই শেষ হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো দাবি করেন উপজেলার ২১টি ইউনিয়নে প্রায় ১হাজার ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী রয়েছে। তবে বেশিরভাগ রোগী হাসপাতালে শয্যা সংকট ও অব্যবস্থাপনার জন্য বেসরকারী হাসপাতাল ও ইউনিয়ন ভিত্তিক হেল্থ ক্লিনিকসহ বাড়িতেই প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। হাসপাতালের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের দায়িত্বে থাকা মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আবদুল হাই বলেন, রবিবার ৮জনের নমুনা পরিক্ষা করলে ৩জনের করোনাই পজেটিভ এসেছে। তবে করোনার দ্বিতিয় ধাপে সর্বমোট ২৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত বছরের মার্চ থেকে এপর্যন্ত চরফ্যাশনে ৮৭ জন করেনায় আক্রান্ত হয়। এছাড়াও হাসপাতালে কোভিড ১৯ রেপিট এন্টিজেন কিট দ্বারা করোনার নমুনা পরিক্ষা করা হচ্ছে। যদি কোন রিপোর্ট সন্দেহাতিতভাবে নেগেটিভ আসে তাহলে সেই নমুনা ভোলার পিসিআর ল্যাবে বিশেষ ব্যবস্থায় পাঠানো হচ্ছে। তবে পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরিক্ষার জ্য পরিবহন খরচের অর্থ বরাদ্ধ বন্ধ রয়েছে।