মেয়ের আত্মহত্যার পর পুলিশ বাবার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

DipKantha
DipKantha
প্রকাশিত: ১:১৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২৬

জি এম ছানাউল্লাহ //

ভোলা সদর উপজেলার অফিসার পাড়ায় একমাত্র মেয়ের আত্মহত্যার তিন মাসের মাথায় মো. শাহাবুদ্দিন (৪২) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত শাহাবুদ্দিন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের আদম আলী ফকির ও ফাতেমা বেগমের ছেলে। তিনি প্রায় দুই বছর ধরে ভোলা আদালতে পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৪ মে এসএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শাহাবুদ্দিনের একমাত্র মেয়ে তৈয়বা জাহান চৈতি (১৬)। পরে সে আত্মহত্যা করে। মেয়ের সেই মৃত্যুর পর থেকে শাহাবুদ্দিন ও তার স্ত্রী গভীর শোকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। তারা ভোলার ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। কয়েকদিন আগে তার স্ত্রী বরিশালে নিজ বাড়িতে গেলে শাহাবুদ্দিন বাসায় একাই ছিলেন।

মঙ্গলবার সকালে নির্ধারিত সময়ে আদালতে কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়ায় সহকর্মীরা তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে এক সহকর্মী বাসায় গিয়ে দেখেন ঘরটি ভেতর থেকে বন্ধ। পরে বাড়ির মালিককে জানানো হলে ভোলা সদর মডেল থানায় খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় শাহাবুদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের ধারণা, একমাত্র মেয়ের মৃত্যুর পর থেকেই শাহাবুদ্দিন চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে ছিলেন। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো ঘটনা তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্ত শেষ হওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। সহকর্মী ও পরিচিতজনরা জানান, শাহাবুদ্দিন দায়িত্বশীল ও শান্ত স্বভাবের একজন পুলিশ সদস্য ছিলেন। পরপর পরিবারে ঘটে যাওয়া দুই মর্মান্তিক মৃত্যু সবাইকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।