ইউনুছ শরীফ, ভোলা//
জোটের শরীর থেকে মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রিত্ব শপদ গ্রহণে আনন্দে উদ্বেলিত নেতাকর্মীরা। মিছিল আর মিষ্টি বিতরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। ইতিপূর্বে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ভোলার উন্নয়নে তেমন কোন ভূমিকা রাখতে না পারলেও এবার মন্ত্রী হওয়ার পর ভোলার সামগ্রিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন এমন প্রত্যাশা ভোলাবাসীর। বিশেষ করে ভোলা-বরিশাল সেতু, নদী ভাঙ্গন রোধ, মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, অবকাঠামগত উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবেন এমন দাবি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের। তবে ভোলার বিএনপি'র সাথে সমন্বয়ে রেখেই ভোলার উন্নয়ন ও রাজনৈতিক সমঝোতায় তিনি ভূমিকা রাখবেন এমন প্রত্যাশা ক্ষমতাশীল রাজনৈতিক দলের ভোলার নেতৃবৃন্দের। তার মন্ত্রিত্ব পাওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
পারিবারিক ভাবে রাজনীতিতে আসেন ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। বাবা মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জু জাতীয় পার্টি (এরশাদ)'র প্রভাবশালী মন্ত্রী, মেয়র ও নেতা ছিলেন। মা শেখ রেবা রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নি। মা-বাবার পছন্দের আলোকে বিয়েও করেছেন আওয়ামী পরিবারে। দেশ-বিদেশে পড়াশোনার পর ২০০৮ সালে বাবার মৃত্যুর পর বাবার প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির হাল ধরেন পার্থ। ভাগ্য চক্রান্তে সেই বছরই বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী হন ভোলা-১ আসন থেকে। আওয়ামী লীগের বর্শিয়ান নেতা অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন সংসদ সদস্য। সংসদের তারণ্যের আইকন হিসেবে ব্যাপক ভূমিকা রেখে জাতীয় আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসেন ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তবে তুখোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও ক্লিন ইমেজ ধরে রাখার প্রত্যয়ে ভোলার উন্নয়নে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারেননি তিনি। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ভোলার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও নদী ভাঙ্গন রোধে তেমন তার তেমন কোন ভূমিকা লক্ষ্যনীয় নয়।
এরপর ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর চলতি বছরের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিত্ব পাওয়ায় ভোলায় ব্যাপক আনন্দ আলোচনায় তিনি। অতীতের সকল গ্লানি মুছে ভোলার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবেন এই প্রত্যাশায় ভোলাবাসীর।
২০০৮ সালে বাবার মৃত্যুর পর বাবার প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি'র হাল ধরেন ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। ভাগ্যপক্ষে থাকায় সেই বছরই বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট থেকে আওয়ামী লীগের বর্ষিয়ান নেতা অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনকে হারিয়ে ভোলা-১ আসন থেকে তরুণ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। তিনি পেয়েছিলেন ৫৩ শতাংশ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছিলেন ৪৩ শতাংশ ভোট। বলা চলে তিনি আওয়ামী লীগের আরেক বর্ষিয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ এর সাথেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। কারণ তখন এমন অবস্থা ছিল যে তোফায়েল আহমেদের বাহিরে ভোলায় কিছু হওয়া বা করা অসম্ভব। যার কারণে তিনি দুই বর্ষিয়ান নেতার সাথেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হয়েছেন। এরপর সংসদে তুখোর বক্তা হিসেবে পরিচিত লাভ করে দেশ-বিদেশে আলোচনায় আসেন। টিভি, টকশো ও আলোচনায় তুখোর বক্তা হিসাবে সামাদ্রিত হন সকল দলের কাছেই। পৈত্রিক প্রভাব প্রতিপত্তি ও মাতৃক এবং বৈবাহিক রাজনৈতিক আধিপত্য থাকায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কোন বিষয়েই তাকে পিছুটানে পড়তে হয়নি। লেজুর ভিত্তিক রাজনীতি- ধান্দা ও টেন্ডারবাজির সাথে সম্পৃক্ত না হয়ে ক্লিন ইমেজের পরিচয় ফুটে ওঠে রাজনৈতিক মাঠে। স্মার্ট চলাফেরা ও স্বচ্ছ রাজনীতির কারণে হয়ে যান বিএনপি"র ঘনিষ্ঠ সহচর। তরুণ বক্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন সর্বস্থানে। অনেকগুলো বিষয় বিবেচনায় স্নেহের সু- দৃষ্টিতে আসেন বিএনপি'র চেয়ারপার্সন মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার। কারণ তিনি পরিচ্ছন্ন রাজনীতি পছন্দ করতেন। এরপর আর পিছে ফিরতে হয়নি তরুন এই রাজনীতিবিদের। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিরোধী রাজনীতিতে থেকে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে আরো বেশি আলোচিত হন তিনি। ২০১৪ সালে বিএনপি জোটের নির্বাচন বর্জনে তিনি জোটের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একই ভূমিকা পালন করেছেন। আওয়ামী শাসনামলে মায়ের গুষ্টির নেতৃত্ব থাকলেও তিনি তা পরোয়া না করে তার ভূমিকায় থেকে জেলও খেটেছেন ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। অবশ্য সে সময় তার ভূমিকা নিয়ে অনেকেই অনেক ভাবে মন্তব্য করার ও চেষ্টা করেছেন। ২০১৮ সালে ঐক্য ফ্রন্ট থেকে ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচন করেন তিনি।
এরপর ২০১৯ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আসেন তার পরিচালিত বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)। এর মধ্যে চলে অনেক নাটকীয়তা। এরপর ২০২৬ সালে আবার বিএনপি'র টিকেট নিয়েই ভোলা-১ আসন থেকে দ্বিতীয় বারের মতো প্রায় ৩০ হাজার ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথের পর পরই ভালোবাসি আশা করেছিল মন্ত্রী হবেন তিনি। কিন্তু রাজনৈতিক অনেক সমীকরণের কারণে একটু পরে হলেও তিনি মন্ত্রী হওয়ায় খুশি ভোলাবাসী।
তিন সন্তানের জনক ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান মায়ের পারিবার রাজনীতি ও তার বৈবাহিক রাজনীতির কারণে বিতর্কের ঊর্ধে থাকার চেষ্টা করেছেন। তার শশুর শেখ হেলাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই এবং বাগেরহাট-১ আসন থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য। মেজ ভাই অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান শান্ত আওয়ামী রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। ফ্যাসিস্ট শাসকদলের সাথে পারিবারিক এত সম্পর্ক থাকার পরেও বিএনপি সরকারের অধীনে মন্ত্রীত্ব লাভ করায় তার কাছে অনেক প্রত্যাশা ভোলাবাসীর।
ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ মন্ত্রী হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন ভোলা জেলা বিএনপি'র আহ্বায়ক আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর, সাধারণ সম্পাদক রাইসুল আলম। তারা বলেন, ভোলার মৌলিক দাবি- ভোল-বরিশাল সেতু, মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, মেঘনার ভাঙ্গন রোধসহ ভোলার বিএনপির রাজনীতির সাথে সমন্বয় করে উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন এমন প্রত্যাশা করি। অভিনন্দন জানিয়ে উন্নয়নের ক্ষেত্রে একই দাবি জানিয়েছেন জামাতে ইসলামী বাংলাদেশের ভোলা জেলা আমির মাস্টার জাকির হোসাইন ও সেক্রেটারি মাওলানা হারুনুর রশিদ, জেলা বিজেপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম রতন ও সাধারণ সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ।
সম্পাদক ও প্রকাশক:- ইউনুছ শরীফ