প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ৮, ২০২৬, ১০:৫২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ৩১, ২০২২, ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ
ভোলায় বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ। নিহত-১। আহত অর্ধশত । আটক ১২।

গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে ভোলা জেলা বিএনপি অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা সংখা জনক। এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত পুলিশ বিএনপি অফিস ঘিরে রেখেছে। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে ভোলা জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে, তেল-গ্যাস রক্ষার দাবিতে পুলিশের অনুমতি নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছি। তখন পুলিশ আমাদেরকে ব্যারিকেড দিয়ে রাখে। সমাবেশ শেষে পুলিশের অনুমতি সাপেক্ষে আমরা মিছিল করার জন্য রাস্তায় জড়ো হই। এ অবস্থায় আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুলিশ নির্বিচারে লাঠিপেটা, টিয়ারশেল নিক্ষেপ এবং অর্কিত গুলি চালায়। কোন ধরনের বাধা-বিপত্তি ছাড়াই পুলিশের নির্বিচারে গুলিতে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়ি। এ ঘটনায় সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য আব্দুর রহিম গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।তার বাড়ি দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোরালিয়া গ্রামের ৯ নং ওয়ার্ডে। এতে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ ট্রুম্যান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির সোফান, স্বেচ্ছাসেবক দল জেলা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আল আমিন, জেলা ছাত্রদল সভাপতি নূরে আলম সহ শতাধিক আহত হয়। এদের মধ্যে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সহ ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের মধ্যে ভোলা সদর হাসপাতালে ও বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেলে ২৫ জন ভর্তি রয়েছে। গোলাম নবী আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে আরো বলেন, পুলিশ আমাদেরকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। আমরা ঘর থেকে বের হতে পারছি না। আমাদের বাসায় অনেক আহত আছে। যাদেরকে চিকিৎসা করাতে পারছি না। ভোলার এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট ও নির্বিচারে গুলি করে হত্যার সাথে জড়িত পুলিশের শাস্তি দাবী করছি। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি'র কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম খান সহ জেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ ঘটনায়, সহকারী পুলিশ সুপার (ভোলা সদর সার্কেল) ফরহাদ সরদার জানান, বিএনপি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার কথা ছিল। কিন্তু তারা মিছিলের জন্য রাস্তা অবরোধ করে রাখলে, পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এ সময় বিএনপি কর্মীরা সরকার বিরোধী স্লোগান দিয়ে পুলিশের উপরে চড়াও হয় এবং ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে এতে পুলিশের ৫ জন সদস্য গুরুতর আহত হয়। পুলিশ নিজেদের নিরাপত্তায় লাঠি ও টিয়ারশীল নিক্ষেপ করে এবং ১২-১৩ আটক গ্রেপ্তার করে। এখন পরিবেশ শান্ত রয়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বিকেল চার টা টা) পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশ বিএনপি অফিস ও জেলা বিএনপি'র সভাপতি বাড়ি ঘিরে রেখেছে। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয।
সম্পাদক ও প্রকাশক:- ইউনুছ শরীফ
Copyright © দ্বীপকন্ঠ. All Rights Reserved